বিভিন্ন কারনে যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় অথবা কমে যায়, তখন বিভিন্ন জীবাণু , ভাইরাস, ফাঙ্গাস, পরজীবী যারা স্বাভাবিক অবস্থায় ইনফেকশন করে না তারা সংক্রমন করে বসে, এই অবস্থাটাকে আমরা সুবিধাবাদী বাঁ সুযোগসন্ধানী সংক্রমন বলে থাকি।
বিভিন্ন কারনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে,যেমন জন্মগতভাবেই রোগ অপ্রতিরোধ্যতা (SCID, Antibody mediated অথবা Cell mediated immunodeficiency) থাকতে পারে, আবার পরবর্তী জীবনে AIDS, Cancer chemo/radio therapy, chronic kidney disease, Dialysis, Organ Transplantation,Chronic Steroid intake, Autoimmune disease requiring immunomodulator, Diabetes, malnutrition ইত্যাদি।
এইগুলি রোগের কারনে কোন কোন ক্ষেত্রে এন্টিবডি তৈরি হয়না, কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিরোধী সেল বাঁ কোষ তৈরি হয়না, তখন সুযোগসন্ধানী প্যাথজেন (Pathogen) গুলি চামড়ায়, অন্ত্রে বা শরীরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রকারের ইনফেকশন তৈরি করতে পারে।
এই ইনফেকশন গুলির উৎস নিজের শরীর ছাড়াও অপরিশোধিত খাদ্য, পানীয়, পরিবেশ, পানি,বায়ু, প্রানীর শরীর, অন্য মানুষের শরীর, লালা, রক্ত,যৌনমিলনের বা স্পর্শের মাধ্যমে হতে পারে। নীচের AI দিয়ে তৈরি করা লিস্ট থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

স্ট্রেপ্টোমাইসিন আবিষ্কারের পর টিবি রোগ অনেক কমে গিয়েছিল, এখন মানুষের আয়ুবৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন ক্রনিক রোগের চিকিৎসার উন্নতির ফলে, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, ক্যান্সারের চিকিৎসা ইত্যাদির উন্নতির ফলে ধনী দেশগুলোতেও আবার নতুন করে টিবিরোগের সংক্রমন বেড়েছে আর সেগুলো বেশীরভাগই বিভিন্ন ঔষধ-প্রতিরোধকারী টিবি, যার ফলে চিকিতসাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও শরীরের বাইরে বাঁ ভিতরে ফাংগাসের আক্রমন, সাইটোমেগালো ভাইরাস, প্যাপিলোমা বা হারপিস ভাইরাসের সংক্রমন ইনফেকশন ছাড়াও বিভিন্ন নতুন ধরনের ক্যান্সারের উদ্ভব ঘটাচ্ছে, যেগুলির চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
দ্বিতীয়বার ক্যান্সার হওয়া রোগীর সংখ্যা এখন অনেক, চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে এবং রোগীর মনোবল ধরে রাখতে এখন অনেক পরিশ্রম ও অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। আজকাল ফাঙ্গাস চর্ম রোগ ছাড়াও শরীরের অভ্যন্তরে ইনফেকশন করে থাকে। এগুলোর চিকিৎসা করা ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। ডীপ ফাঙ্গাল ইনফেকশনে সাধারণত ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করতে হয় যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
একসময় AIDS এর রোগীদের PCP (Pneucystis carini pneumonia) হত, আবার কারোর PCP infection হলে আগেই খুঁজা হতো তার AIDS আছে কিনা? এখন এসবের চিকিৎসা বের হয়েছে, রোগী দীর্ঘদিন ধরে এসব চিকিৎসা গ্রহন করে সুস্থ থাকতে পারে। বিভিন্ন মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিসসার মাধ্যমে এসব রোগ নিরাময় করে তুলা হচ্ছে।
চিকিৎসক বাঁ সার্জনের সঙ্গে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার নার্স , ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, হেলথ কেয়ার প্রভাইডাররা কাজ করছেন একটা সমন্বিত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য। এখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার যে কারো AIDS, Hepatits-C সংক্রমন থাকলেই সে চিকিৎসা পাবে না এমন নয়, চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী তার নিজের সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
কীভাবে সুযোগসন্ধানী সংক্রমন প্রতিহত করবেন?
সবার আগে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিছন্নতা রক্ষা করতে হবে। নিয়মিত গোছল, দাঁত ব্রাস করা, মুখ ধোয়া, সাধারন হাইজিন রক্ষা করতে হবে। অন্য লোকের সাথে দেখা সাক্ষাতের সময় কমপক্ষে ২ ফুট দুরত্ব বজায় রাখতে হবে, হ্যান্ড ওয়াশ ছাড়া কেউ রোগীকে স্পর্শ করতে পারবে না।
ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, রক্তের রোগ, চর্ম রোগ ইত্যাদির চিকিৎসা ঠিকভাবে করতে হবে, নিয়মিত ঔষধ এবং চিকিৎসকের নির্দেশমত করতে হবে, ভ্যাক্সিন ঠিকমত গ্রহন করতে হবে। সংক্রামক রোগের অতিমারী বা মহামারী হলে বিশেষ সাবধানতা গ্রহন করতে হবে।স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
কিভাবে সুযোগসন্ধানী ইনফেকশনের চিকিৎসা করবেন?
দ্রুত রোগ নিরুপন এবং তার উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে হবে। এন্টিবায়োটিক, এন্টি ভাইরাল, এন্টি ফাঙ্গাল ড্রাগ উপযুক্ত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গ্রহন করতে হবে, কৃমিনাশক, আমাশয় ইত্যাদির চিকিতসাও সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ করে করতে হবে। কোন কোন সময় passive immunity যেমন এন্টিভাইরাল সিরাম বা ইমিউনোগ্লোবুলিন ব্যবহার করা লাগতে পারে। চিকিৎসকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে এবং চিকিৎসার পরিবর্তন প্রয়োজন হলে করতে হবে।
সুযোগসন্ধানী সংক্রমণ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। যখন কোনো কারণে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়—যেমন HIV/AIDS, ক্যান্সারের চিকিৎসা, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহার বা অপুষ্টি—তখন সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন জীবাণুও গুরুতর সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। এসব সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আক্রমণ করে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে জটিল ও প্রাণঘাতী অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে আজ অনেক সুযোগসন্ধানী সংক্রমণ যেমন ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট টিবি, গভীর ফাঙ্গাল ইনফেকশন, এবং ভাইরাসজনিত রোগগুলো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে। দ্রুত রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগ এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব।
উপসংহার
সুযোগসন্ধানী সংক্রমণ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। যখন কোনো কারণে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়—যেমন HIV/AIDS, ক্যান্সারের চিকিৎসা, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহার বা অপুষ্টি—তখন সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন জীবাণুও গুরুতর সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। এসব সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আক্রমণ করে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে জটিল ও প্রাণঘাতী অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে আজ অনেক সুযোগসন্ধানী সংক্রমণ যেমন ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট টিবি, গভীর ফাঙ্গাল ইনফেকশন, এবং ভাইরাসজনিত রোগগুলো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে। দ্রুত রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগ এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তবে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা, টিকা গ্রহণ করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এসব সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সর্বোপরি, সচেতনতা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা অনুসরণই সুযোগসন্ধানী সংক্রমণ মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।













